বিতর্কিত পরিচয় উম্মাচনের পর চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা ৫ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত
বিতর্কিত পরিচয় উম্মাচনের পর চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা ৫ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের জেরে আকস্মিকভাবে কর্মস্থল থেকে লাপাত্তা হয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা পুতুল চন্দ্র রায়। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি দপ্তরে না আসায় বন্দরের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিরাজগঞ্জের
বাঘাবাড়ী নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম তায়েফকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গত ২০ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে ২০১৯ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একটি প্যাডের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুতুল চন্দ্র রায়কে সংগঠনটির ‘স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই আকস্মিকভাবে অফিসে আসা বন্ধ করে দেন তিনি।
স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমালোচনা এড়াতেই তিনি কর্মস্থল ছেড়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ১৭ মে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। পুতুল চন্দ্র রায়ের কাছে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি রহস্যজনক ভঙ্গিতে বলেন, ‘চিলমারীর মানুষের সঙ্গে আর দেখা হবে না।’ বদলি-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কিছু না জানিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, আপনারা জেনে নেন।’ চিলমারী উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বকুল জানান, ‘সামাজিক মাধ্যমে পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত।’ চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ফজলুল হক বলেন, ‘পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র পতিত সরকারের একজন সক্রিয় রাজনৈতিক সদস্য ছিলেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে বন্দরে একটি চক্র তৈরি করে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন।
তাঁর সরে যাওয়ার মাধ্যমে চিলমারী নদীবন্দর ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে।’ চিলমারী বন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পোর্ট অফিসার মোঃ মাহাবুব আলম তায়েফ জানান, ‘নদীবন্দরের প্রশাসনিক কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহে তিনি নিজে চিলমারীতে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি তদারকি করবেন।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স